বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
ইরানে সরকার পতন সম্ভব নয়: ইসরায়েলের ‘অসহায়’ স্বীকারোক্তি হরমুজ প্রণালিতে ৩ জাহাজে ভয়াবহ হামলা: একটিতে আগুন, নাবিকদের উদ্ধার সালথায় আওয়ামী আমলের সারের ডিলার বাতিলের দাবিতে উত্তাল মানববন্ধন ঝুঁকিপূর্ণ মিটারে অগ্নিকাণ্ডের আতঙ্ক: ধামরাইয়ে নতুন সংযোগ দিতে পল্লী বিদ্যুতের গড়িমসি ও মালিকপক্ষের অসহযোগিতার অভিযোগ জমে উঠেছে ইসলামপুর ঈদের বাজার, খুশি ব্যবসায়ীরা ॥ ইবাদতে চাই পূর্ণ মনোযোগ: রমজান হোক আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের মাস নেতানিয়াহুর ‘মৃত্যু’ নিয়ে ধোঁয়াশা: ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবিকে ‘গুজব’ বলছে ইসরায়েল ২০৪২ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকবেন তারেক রহমান: জয়নুল আবদিন ফারুক

১৫ কিলোমিটার হাঁটলে খাবার জোটে সবজি চাচার!

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
সবজি বিক্রি করতে যাচ্ছেন তাহাজ ম-লমাঠে চাষাবাদের কোনও জমি নেই। ভারী কাজও করতে পারেন না। বেঁচে থাকার তাগিদে কলার মোচাসহ নানা সবজি বিক্রি করেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের ঈশ্বরবা গ্রামের তাহাজ ম-ল (৬৫)। কালীগঞ্জ শহরের বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে কলার মোচা, কলাগাছের ভেতরের নরম শাঁস, বিভিন্ন প্রকারের সবজি বিক্রি করেন তিনি। সবজি বিক্রি করতে গড়ে প্রতিদিন তাকে ১০/১৫ কিলোমিটার পথ হাঁটতে হয়। এখান থেকে যা আয় হয় তা দিয়ে ৫ সদস্যের সংসার চালান তিনি। তবে যেদিন কাজে যেতে পারেন না সেদিন পাতে খাবার জোটে না।

পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে সবজি বিক্রি করায় তাহাজ ম-ল শহরের অনেকের কাছে সবজি চাচা হিসেবে পরিচিত। শারীরিকভাবে দুর্বল হওয়ায় রোজগারের জন্য পাড়ায় পাড়ায় হেঁটে সবজি বিক্রি করেন তিনি। তাহাজ উদ্দিনের ৪ ছেলে ও ২ মেয়ে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। বড় ছেলে তোফাজ্জেল ম-ল (৩৮) গ্যাংরিন রোগে আক্রান্ত । বাকি ৩ ছেলে ওবাইদুল (৩২), শহিদুল (৩০) ও মোত্তাকিন (১৮) পরের জমিতে কাজ করে। ওবাইদুল ও শহিদুল আলাদা থাকেন। তোফাজ্জেল ও মোত্তাকিন বাবা-মার সঙ্গে থাকেন।

তাহাজ ম-ল জানান, তিনি যা আয় করেন তাতে সংসারই চলে না তারপর অসুস্থ ছেলের ওষুধ খরচের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তাকে হিমশিম খেতে হয়। তাই এ বয়সেও কাজ করেন তিনি। কলার মোচাসহ বিভিন্ন সবজি দু’টি ঝুড়িতে সাজিয়ে ঘাড়ে করে শহরের ১০/১৫ কিলোমিটার পথ হেঁটে বাড়িতে সবজি বিক্রি করেন। ৩০/৪০টি মোচা বিক্রি করতে তাকে অন্তত একশ বাড়িতে ঘুরতে হয়। একইসঙ্গে তিনি কলাগাছের ভেতরের নরম অংশসহ বিভিন্ন সবজিও বিক্রি করেন। তবে প্রত্যেক দিন সব সবজি বিক্রি হয় না তার। যেদিন সবজি বিক্রি কম হয় সেদিন তিন বেলা খাবার জোটে না।

সবজি বিক্রি করতে যাচ্ছেন তাহাজ ম-লতিনি জানান, কলার মোচা সংগ্রহ করতে তাকে বিভিন্ন গ্রামের কলাচাষিদের কাছে ধরণা দিতে হয়। চাষিরা মোচা বাবদ কোনও টাকা-পয়সা নেন না। মোচা কাটার সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত থেকে তিনি বিনা মূল্যে ওগুলো সংগ্রহ করেন। কিন্তু সব সময় কলার মোচা পাওয়া যায় না। এজন্য বর্ষার মৌসুমে কলমি শাক, হেলেঞ্চা শাক ও শাপলা বিক্রি করেন।

সদা হাস্যোজ্জ্বল সবজি চাচা বলেন, ‘জীবনের বাকি সময়টুকু সুস্থ শরীরে এভাবেই কাটাতে চাই। তবে বেশি দিন হয়তো আর এভাবে ঘুরতে পারবো না। তাই স্থায়ী কোনও ব্যবসার ব্যবস্থা যদি কেউ করে দিতো তাহলে হয়তো অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে বাকি জীবন নিশ্চিন্তে কাটাতে পারতাম।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com